ক্যান্সার—এই শব্দটি যেমন ভয়ানক, তেমনি কোলন ক্যান্সার (Colon Cancer) তার মধ্যে একটি নীরব ঘাতক। এটি মূলত বৃহদান্ত্র (large intestine)-এ হওয়া এক ধরনের ক্যান্সার, যাকে কলোরেক্টাল ক্যান্সারও বলা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত। অথচ কিছু সতর্ক লক্ষণ আগেভাগে চিনে নিলে এই প্রাণঘাতী ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এটি সবচেয়ে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। পায়খানার রঙ গা dark বা লালচে হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
নিয়মিত পেটে ব্যথা, হজমে সমস্যা, গ্যাস জমা—এসবও কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
কোনো কারণ ছাড়াই যদি শরীরের ওজন দ্রুত কমে যেতে থাকে, তবে তা দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।
কোলনের স্বাভাবিক কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটলে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া চলতে থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।
রক্তশূন্যতা বা দেহে অক্সিজেন পরিবহণে সমস্যা দেখা দিলে সবসময় দুর্বল লাগতে পারে, যা ক্যান্সারের পরোক্ষ লক্ষণ।
অনেক সময় মলত্যাগের পরও মনে হয় পায়খানা সম্পূর্ণ হয়নি, এ ধরনের অনুভূতিও কোলনের কোনো অসুস্থতার ইঙ্গিত দেয়।
যদি উপরের এক বা একাধিক লক্ষণ নিয়মিতভাবে দেখা যায়, তবে অবিলম্বে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কোলনোস্কোপি, সিটি স্ক্যান, রক্ত পরীক্ষা—এসব মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা যায়।
কোলন ক্যান্সার শুরুতে নিরব থাকলেও সময়ের সাথে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই অবহেলা নয়, বরং সচেতনতা হোক প্রধান হাতিয়ার। নিজেকে এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখতে কোলন ক্যান্সারের লক্ষণগুলো আগে থেকেই চিনে রাখুন।
মন্তব্য করুন